অফিসে একই কক্ষে কাজ করার সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির তাপমাত্রা নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। অনেক সময় দেখা যায়, একই তাপমাত্রায় কারো কাছে এসির হাওয়া আরামদায়ক মনে হচ্ছে, আবার কারো কাছে তা অসহ্য ঠান্ডা লাগছে। আবার কেউ কেউ এসির মধ্যেও গরম অনুভব করেন।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পরিবেশে কাজ করলে তা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এবং নিজের শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে কীভাবে কাজ করা যায়, তা জানা জরুরি। মানুষের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়।
বয়স, শারীরিক গঠন, পরিহিত পোশাক, দৈহিক সক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে একই ঘরের তাপমাত্রা সবার কাছে সমানভাবে অনুভূত হয় না। যারা ডেস্কে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, তাদের শরীরের নড়াচড়া কম থাকায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হওয়ার প্রবণতা থাকে। এছাড়া এসির বাতাস সরাসরি শরীরে লাগলে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ে।
অন্যদিকে, জানালার পাশে রোদ পড়া, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব বা একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তাপের কারণে কারো কারো কাছে এসির তাপমাত্রা বেশি গরম মনে হতে পারে। এসির ঠান্ডা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সরাসরি বাতাসের প্রবাহ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। এসির ভেন্টের ঠিক নিচে বা সামনে বসা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সম্ভব হলে বসার জায়গা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি মুখ, ঘাড় বা শরীরে না লাগে। এছাড়া অফিসে সবসময় একটি পাতলা কার্ডিগান, শাল বা জ্যাকেট সাথে রাখা যেতে পারে। এতে অফিসের সামগ্রিক তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন ছাড়াই নিজের আরাম অনুযায়ী পোশাকের স্তর বাড়িয়ে বা কমিয়ে তাপমাত্রা সামঞ্জস্য করা সম্ভব হয়।
এসি ঘরে দীর্ঘসময় কাজ করলে অনেকেই পানি পান করার কথা ভুলে যান। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। একটানা দীর্ঘসময় বসে না থেকে কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাহাঁটি বা হালকা স্ট্রেচিং করা শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং ঠান্ডা লাগার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
আবার যাদের গরম লাগে, তারা সরাসরি এসির নিচে বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় বসার চেষ্টা করতে পারেন। ভারী পোশাক এড়িয়ে আরামদায়ক ও হালকা সুতির পোশাক পরা তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে বারবার অস্বাভাবিক গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিলে শুধু এসির তাপমাত্রাকে দায়ী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অফিসের এসি নিয়ে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো এক পক্ষের সুবিধার জন্য অন্য পক্ষকে অস্বস্তিতে না ফেলা। একটি নির্দিষ্ট আরামদায়ক তাপমাত্রা নির্ধারণ করা, এসির বাতাসের দিক পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাকের স্তর বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্যের শারীরিক অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া।
একই তাপমাত্রায় মানুষের অনুভূতি ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। তাই এসির রিমোট নিয়ে টানাটানি না করে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বের করা উচিত, যাতে অফিসের বেশিরভাগ কর্মী স্বস্তিতে কাজ করতে পারেন। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহনশীলতাই এই ধরনের কর্মক্ষেত্রের সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
