ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি তারিখে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সূচি অনুযায়ী, ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৪টা ২৭ মিনিটে।
জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা শূন্য মিনিটে। আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে এবং ইশার নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। একই দিনে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে।
পরবর্তী দিন অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার ফজরের নামাজের সময় অপরিবর্তিত থাকবে এবং সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে হবে। বিভাগীয় শহরগুলোর ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনা বিভাগের জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের জন্য ৭ মিনিট, রংপুর বিভাগের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগের জন্য ১ মিনিট সময় যোগ করতে হবে।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। এছাড়া ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ রয়েছে, যা নিয়মিত পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য বাধ্যতামূলক এবং এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া গুনাহের কাজ।
কোনো কারণে নামাজ ছুটে গেলে তা কাজা হিসেবে আদায় করে নিতে হবে। সুন্নতে মুআক্কাদা এবং সুন্নতে যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব অর্জিত হয়। নামাজের রাকাত সংখ্যার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, ফজরের নামাজে ২ রাকাত ফরজ এবং এর আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে। জোহরের নামাজে ৪ রাকাত ফরজ, ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করতে হয়।
আসরের নামাজে ৪ রাকাত ফরজ এবং এর আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা রয়েছে। মাগরিবের নামাজে ৩ রাকাত ফরজ এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে। ইশার নামাজে ৪ রাকাত ফরজ, ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে।
ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। ইসলামে ইমানের পর নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ ঘোষণা করেছেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, নামাজ ত্যাগ করা কুফুরি হিসেবে গণ্য হয়।
রাসুল (সা. ) বলেছেন, একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হলো নামাজ। এছাড়া পরকালে হিসাবের ক্ষেত্রে নামাজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। রাসুল (সা. ) উল্লেখ করেছেন যে, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবার আগে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজের হিসাব যথাযথ হলে ব্যক্তি সফল হবে, অন্যথায় সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাই নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ধর্মীয় দায়িত্ব।
