ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বাংলা এবং ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি তারিখে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সূচি অনুযায়ী ফজর নামাজের সময় ভোর ৪টা ২৫ মিনিট এবং জোহর নামাজের সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিট।
আসর নামাজের সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিট, মাগরিব নামাজের সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিট এবং ইশা নামাজের সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৩ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। উক্ত দিনে সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিটে। এছাড়া ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের জন্য ফজরের সময় ভোর ৪টা ২৫ মিনিট এবং সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৪০ মিনিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগীয় শহরগুলোর ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে সমন্বয় করে সময় যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনা বিভাগের জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের জন্য ৭ মিনিট, রংপুর বিভাগের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগের জন্য ১ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ এবং ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ আদায় করা হয়। সুন্নতে মুআক্কাদা হলো সেই নামাজ যা নবীজি নিয়মিত আদায় করতেন। এছাড়া পাঁচ ওয়াক্তে কিছু সুন্নতে যায়েদা নামাজ রয়েছে যা মাঝে মাঝে আদায় করা হতো। ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য এবং এগুলো ছেড়ে দেওয়া গুনাহের কাজ। অনিচ্ছাবশত কোনো নামাজ ছুটে গেলে পরবর্তীতে তা কাজা করে নেওয়া আবশ্যক। সুন্নতে মুআক্কাদা ও যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব অর্জিত হয়, তবে তা আদায় না করলে গুনাহ হয় না।
নামাজের রাকাত সংখ্যার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী ফজরের ফরজ ২ রাকাত এবং ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে। জোহরের ফরজ ৪ রাকাত, ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে। আসরের ফরজ ৪ রাকাত এবং ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা রয়েছে।
মাগরিবের ফরজ ৩ রাকাত এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে। ইশার ফরজ ৪ রাকাত, ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে। ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতর নামাজ আদায় করতে হয়।
ইসলামে ইমানের পর পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ করেছেন। হাদিসে ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে এবং একে কুফুরির সাথে তুলনা করা হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর ভাষ্যমতে, মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হলো নামাজ।
এছাড়া কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের হিসাবের মধ্যে নামাজের হিসাব সবার আগে নেওয়া হবে। নামাজের হিসাব যথাযথ হলে বান্দা সফল ও মুক্তিপ্রাপ্ত হবে, আর এতে ত্রুটি থাকলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
