বাংলাদেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ চলবে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.
) অলি আহমদ। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের মনোনীত সংসদ সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল।
সেই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর থেকে প্রতিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় কোনো ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এবং সংসদ সচিবালয় এই ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বুধবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনের ফলাফল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরেই সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।
প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণের কিছু অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। নির্বাচন কমিশন ও সংসদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোট শুরুর পাঁচ মিনিট আগে সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভোট দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হবে।
এরপর বাকি প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হবে এবং ভোট শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে পুনরায় সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দৃশ্যও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে। ভোটগ্রহণের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে ব্রিফ করবেন।
প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—একটি কাউন্টারফয়েল এবং অন্যটি ব্যালট অংশ। কাউন্টারফয়েলে সংসদ সদস্যের নাম, ক্রমিক নম্বর এবং নির্বাচনী এলাকার নম্বর থাকবে। সংসদ সদস্যরা তাদের নাম লিখে ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন এবং ব্যালট পেপারের ডান দিকে বাংলা বর্ণানুক্রমে প্রার্থীদের নাম থাকবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ভোট দিতে হবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। ভোটারদের মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন, এনসিপির ৮ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ, সংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির একজন করে সদস্য রয়েছেন।
ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের ২৫০ জন সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী ১১ দলীয় জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্য অলি আহমদের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বঙ্গভবনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
