নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ২১টি মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর জামিন আবেদনের শুনানি আজ হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই জামিন আবেদনের বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে গত বছরের ২৫ আগস্ট ভোরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শান্তিনগরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তাকে মূলত নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও হাজির করা হয়। বিভিন্ন সময়ে তার আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ মোহসেনের আদালতে তাকে হাজির করা হয়।
ওই সময় দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পৃথক চারটি হত্যা মামলায় আট দিনের রিমান্ড শেষে তাকে অন্য দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময়ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালত তা গ্রহণ করেননি।
গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন থানায় দায়ের করা এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুর রশিদ জানান, বিভিন্ন সময়ে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি এসব মামলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন যা আজ শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। গোলাম দস্তগীর গাজী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া এখন উচ্চ আদালতে চলমান।
মামলার সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিটি মামলার জামিন আবেদনের শুনানি আলাদাভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আজ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং আদালত উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে পরবর্তী আদেশ দেবেন। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত জামিন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নেবেন। গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নজর রাখছে।
