২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের লক্ষ্যে মোট ৭৩৯ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই আর্থিক প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।
এই বিশাল বাজেটের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বাবদ ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা এবং নবম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বাবদ ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বই মুদ্রণ ও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য মোট ১০০টি দরপত্রের মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫টি বইয়ের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পর মোট ১৫৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ১৩৪টি প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ১০০টি দরপত্রের মধ্যে ৯৮টির বিপরীতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বই কেনার সুপারিশ করে। এই প্রক্রিয়ায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহে ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা ব্যয় হবে।
এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, কাগজসহ বাঁধাই ও সরবরাহে গড়ে ৬৩ টাকা ১৭ পয়সা ব্যয় হবে। ক্রয় প্রস্তাবের শর্ত অনুযায়ী, ৯২টি লটে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতাকে এবং ছয়টি লটে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অবশিষ্ট দুটি লটের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নবম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের জন্য ২১৫টি দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৬ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই কাজের জন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে এবং এর মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা।
নবম শ্রেণির ক্ষেত্রেও মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রস্তাবগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনার পর অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি বছর বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার যে সরকারি কর্মসূচি রয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।
বই মুদ্রণ ও সরবরাহের এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা বজায় রেখে সম্পন্ন করার জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কাজ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন মুদ্রণ কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পাঠ্যপুস্তকগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অনুমোদিত এই বাজেট সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের গুণমান বজায় রাখার বিষয়টিও এই ক্রয় প্রক্রিয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এখন অনুমোদিত দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চুক্তি সম্পাদন করবে এবং দ্রুত মুদ্রণ কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
