বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ এবং লালদীঘির সমাপনী সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার অলি খাঁ জামে মসজিদের মোড় থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত আয়োজিত এক মিছিল ও সমাবেশ থেকে তিনি এই আহ্বান জানান।
চকবাজার থানা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচার দাবি করেন এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি। তিনি লংমার্চ ও সমাপনী সমাবেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে এতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
মুহাম্মদ শাহজাহান অভিযোগ করেন যে, গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। দেশের চলমান সংকট নিরসনে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। চকবাজার থানা জামায়াতের আমির আহমদ খালেদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ সঞ্চালনা করেন নায়েবে আমির মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন এবং মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল। এর আগে অলি খাঁ জামে মসজিদের মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর তেলপাট্টি, রসিক হাজারী ও গোলজার মোড় অতিক্রম করে প্রবর্তক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে চকবাজার থানা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ, জাহাঙ্গীর আলম, এরশাদুল ইসলাম, আমজাদ হোসাইন এবং মাওলানা খালেদ জামালসহ স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারের দাবি আদায় এবং জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।
লংমার্চে ১৫০০ গাড়ি নিয়ে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক এই কর্মসূচিকে ঘিরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লংমার্চটি ঢাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে এবং পরবর্তীতে লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
