১১ দলীয় জোট শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে। গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন, জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসনের দাবিতে এই লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে জোটের নেতাকর্মীবাহী গাড়িগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
এর আগে সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে একটি উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান, ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
লং মার্চে অংশগ্রহণকারী নেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ অবসানের দাবি জানান। জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। লং মার্চের প্রথম পথসভাটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর কুমিল্লায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পর্যায়ক্রমে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একটি জনসভার মধ্য দিয়ে এই লং মার্চ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। লং মার্চে অংশ নেওয়া নেতারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তারা বলেন, দেশের বর্তমান সংকট নিরসনে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। লং মার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লং মার্চের প্রতিটি পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে।
তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে এবং দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে। লং মার্চের গাড়ি বহরটি ঢাকা থেকে বের হওয়ার পর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বাগত জানান। পুরো যাত্রাপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জোটের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লং মার্চের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের চলমান অস্থিরতা দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করা। কর্মসূচিটি সফল করতে জোটের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। লং মার্চের প্রতিটি পথসভায় স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে জোটের।
সবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী জনসভার মাধ্যমে এই লং মার্চ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে বলে জোটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
