ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লংমার্চ শুরু হয়েছিল এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালদীঘি ময়দানের সমাবেশের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই লংমার্চে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি গাড়ি অংশ নিয়েছিল। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পথসভা ও সমাবেশগুলোতে জোটের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও দেখা গেছে।
লালদীঘি ময়দানের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের বিল এসেছে এবং গ্যাস না দিলেও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া তেল ও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে এবং এর প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার ওপর পড়ছে। তিনি বলেন, জনগণের এই সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তির মতামত উঠে এসেছে। কুমিল্লা থেকে লালদীঘি ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়া মাহবুব নামের এক জামায়াত সমর্থক জানান, আজকের লংমার্চে সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এবং দেশের মানুষ গণমাধ্যমের মাধ্যমে তা প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি বলেন, সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং আজকের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তারই প্রমাণ।
ঢাকা থেকে আসা এনসিপির কর্মী রানা নামের এক ব্যক্তি জানান, আজকের কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। রানা আরও বলেন, আগামী দিনেও জনগণের দাবি আদায়ে এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে থাকবে।
এই লংমার্চের মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্য তাদের ছয় দফা দাবিতে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সভা ও সমাবেশগুলোর মাধ্যমে তারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তাদের সদস্য এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছে।
এই লংমার্চে ব্যবহৃত ১ হাজার ৫০০টি গাড়ির বহর এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো দাবিগুলো তুলে ধরেছে।
