দেশে হামের উপসর্গ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৮৮ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে হামের কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে মৃতের সংখ্যা ৯৮৭ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে এক হাজার ১১৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৫৬৭ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, একই সময়ে সন্দেহজনক হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬২ হাজার ২৬২ জন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ৬২ জন মারা গেছেন। এছাড়া বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুইজন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে।
ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সিলেটে ১৫২ জন, রাজশাহীতে ৯২ জন, ময়মনসিংহে ৭৫ জন, চট্টগ্রামে ৬৪ জন, বরিশালে ৫৬ জন, খুলনায় ৩৫ জন এবং রংপুরে ১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
হাম একটি সংক্রামক রোগ যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন। হামের উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লাল রঙের ফুসকুড়ি ওঠা।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে হাম থেকে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাগরিকদের পরামর্শ দিচ্ছে যে, শরীরে হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে এবং আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
