প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন যে সাইবার হামলাসহ নতুন ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা, আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সাইবার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সমুদ্রসীমায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ড্রোন তৈরির এই উদ্যোগ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে স্বতন্ত্র রানওয়ে বা ঘাঁটি নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, পৃথক বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের সীমিত ভূমি এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহারের কথা বিবেচনা করে সরকার কেবল প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা রানওয়ে নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাকেই যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিমানবাহিনী দেশের সমগ্র আকাশসীমার নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে এবং রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়লেও বাংলাদেশ আবহাওয়া পূর্বাভাসে পিছিয়ে নেই।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রপাতসহ অন্যান্য দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা প্রদান করছে। তিনি জানান, ৫ থেকে ১০ দিন আগে দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা অর্জনে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সরকার আধুনিকায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
অসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ নির্দেশিকা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী অসামরিক প্রশাসনকে সরাসরি সহায়তা করে থাকে।
এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ ধারা অনুযায়ী অসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করেন যে, দেশের আকাশসীমা রক্ষা এবং বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
