রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রুপা হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার নথিপত্র ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত এই জামিন মঞ্জুর করেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান সুজা এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গুলিতে নিহত হন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সাধন চন্দ্র মজুমদারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। এর আগে, ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দিন এই মামলায় সাধন চন্দ্র মজুমদারকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন। পুলিশ আদালতে দাবি করেছিল যে, শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন হত্যায় সাবেক এই মন্ত্রীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে ৩ অক্টোবর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সাধন চন্দ্র মজুমদার নওগাঁ-১ আসন থেকে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৮ সালে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রায় দেন। মামলার বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামিন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। রিমান্ড শেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে জামিন আদেশের পর মামলার পরবর্তী আইনি ধাপগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা কাজ করছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাধন চন্দ্র মজুমদারের নাম আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
এখন জামিন পাওয়ার ফলে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্যায়ে কী ঘটে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। মামলার তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের বিষয়েও অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। আদালতের এই আদেশ মামলার সামগ্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জামিন পাওয়ার পর সাবেক এই মন্ত্রীর আইনি অবস্থান এবং মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
