জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনুপস্থিতির কারণে তার নির্ধারিত প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই ঘটনা ঘটে। সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ৪০৮ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নটি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে উত্থাপনের জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। গাজী নজরুল ইসলাম তার লিখিত প্রশ্নে দেশে শ্রম আদালতের বর্তমান সংখ্যা, অবস্থান এবং এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। এছাড়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সে বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছিলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনার সময় গাজী নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন। তবে স্পিকার তার আসনে নজরুল ইসলামকে দেখতে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেন যে, জি এম তো নাই। স্পিকারের এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে উপস্থিত অন্যান্য সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।
সংসদ সদস্য অনুপস্থিত থাকায় তার প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়নি এবং কার্যপ্রণালী অনুযায়ী তা বাতিল বলে গণ্য হয়। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে তার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নটি উত্থাপনের সুযোগ থাকে না। সাধারণত সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা বা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন করে থাকেন।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে সংসদে আলোচনা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সদস্য উপস্থিত না থাকলে সেই প্রশ্নটি আর আলোচনার টেবিলে আসে না। গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আলোচনায় রয়েছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
এরপর থেকে তাকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে। সংসদীয় কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম হলো এই প্রশ্নোত্তর পর্ব। তবে সদস্যের অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে প্রশ্ন বাতিল হয়ে গেলে সেই বিষয়ে মন্ত্রীর কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার সুযোগ আর থাকে না।
বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে অন্যান্য সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্বটি স্বাভাবিকভাবে চললেও গাজী নজরুল ইসলামের অনুপস্থিতি এবং স্পিকারের মন্তব্যটি আলোচনার জন্ম দেয়। সংসদীয় সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, কোনো সদস্যের প্রশ্ন বাতিল হওয়ার পর তা পুনরায় উত্থাপনের জন্য নতুন করে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতি এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিষয়টি সংসদীয় অঙ্গনে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, পরবর্তী অধিবেশনগুলোতেও যদি কোনো সদস্য অনুপস্থিত থাকেন, তবে তার প্রশ্নগুলো একইভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অধিবেশনে উপস্থিতি একটি মৌলিক শর্ত। এই ঘটনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বের নিয়মাবলী এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির গুরুত্ব পুনরায় সামনে এসেছে। সংসদীয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে প্রতিটি সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে এই ঘটনার পর কার্যক্রমের পরবর্তী অংশগুলো যথারীতি সম্পন্ন হয়।
