বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ভিআইপি প্রজেকশন মিলনায়তনে ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহর অভিনীত তিনটি চলচ্চিত্র বিনা মূল্যে প্রদর্শিত হবে। এই আয়োজনটি সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে করা হয়েছে।
প্রতিদিন বিকেল চারটায় একটি করে চলচ্চিত্র দেখানো হবে। প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর এম এ খালেক পরিচালিত ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম আলোচিত ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত। এই ছবিতে সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন শাবনূর ও সোনিয়া।
পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর একই সময়ে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রটি দেখানো হবে হবে। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯৯৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই সালমান শাহর বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল এবং এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন মৌসুমী।
প্রদর্শনীতে শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর মতিন রহমান পরিচালিত ‘তোমাকে চাই’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটিতে সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন শাবনূর। এই জুটিটি নব্বইয়ের দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি জুটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান জানান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর খবর প্রকাশের পর থেকেই দর্শক ও ভক্তদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, যে আয়োজনটি চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং সালমান শাহর অগণিত ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকদেরও সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে কোনো প্রবেশমূল্য লাগবে না এবং আসন খালি থাকা সাপেক্ষে দর্শকেরা তাদের প্রিয় নায়কের চলচ্চিত্র বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রয়াত অভিনেতার অভিনয়, জনপ্রিয়তা এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান স্মরণ করা।n
চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন নামের এই অভিনেতা ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দারিয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চলচ্চিত্রে আসার আগে বিজ্ঞাপনচিত্র এবং টেলিভিশন নাটকে কাজ করেছিলেন এবং শৈশবে ছায়ানটে সংগীতের তালিম নিয়েছিলেন।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় এবং সংলাপ বলার সহজাত ধরন তাঁকে অন্য নায়কদের থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। এর ফলে তিনি দ্রুত তরুণ দর্শকদের নতুন নায়ক হয়ে ওঠেন।
সালমান শাহর অভিনয় জীবন ছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর মধ্যে ১৩টি চলচ্চিত্রে তাঁর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে ছিলেন শাবনূর। এছাড়া তিনি মৌসুমী, শাবনাজ, লিমা, শিল্পী ও সোনিয়ার মতো অভিনেত্রীদের সঙ্গেও অভিনয় করেছিলেন।
নব্বইয়ের দশকের তরুণেরা তাঁর পোশাক, চুলের ধরন এবং পর্দায় উপস্থিতির ধরন অনুসরণ করতেন। তিনি কেবল রোমান্টিক চরিত্রের পাশাপাশি পারিবারিক গল্প এবং সামাজিক সংকটের প্রতিবাদী তরুণের ভূমিকাতেও সফল হয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগৎ এবং তাঁর ভক্তদের হয়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর তিন দশক পরও তাঁকে ঘিরে আলোচনা এবং স্মৃতিচারণা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন এই তিন দিনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর অবদানকে স্মরণ করছে।
