জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ ও ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র লাভ ৯৬ মুক্তি পেয়েছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর দেশের ২০টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পায়। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা ইভান মল্লিক। সালমান শাহর মৃত্যুর পর ভক্তদের মধ্যে যে আবেগ ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তার একটি বিশেষ অধ্যায় এই সিনেমার মূল উপজীব্য।
নির্মাতা ইভান মল্লিক জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সালমান শাহর অভিনয়ের ভক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর সেই সময়ের ভক্তদের মধ্যে যে শোক ও মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি জানান, সেই সময় সালমান শাহর মৃত্যুর খবর শুনে অনেক ভক্তের আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাও তিনি শুনেছিলেন।
এই বিষয়গুলোই তাকে সিনেমাটি নির্মাণের অনুপ্রেরণা দেয়। ২০০৮ সালে তিনি এই সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। ইভান মল্লিক আরও বলেন, নব্বইয়ের দশকের দর্শক এই সিনেমার গল্পের সঙ্গে নিজেদের আবেগ মেলাতে পারবেন। লাভ ৯৬ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিয়ান খান ও পূর্ণতা। এটি তাদের দুজনেরই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
সিনেমায় তাদের চরিত্রের নাম রাখা হয়েছে খসরু ও দুলি। নির্মাতা জানান, সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত আনন্দ অশ্রু সিনেমা থেকে এই চরিত্র দুটির নাম নেওয়া হয়েছে। আরিয়ান খান ও পূর্ণতা ছাড়াও এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডিজে সোহেল, রুবেল রানা ও সীমান্ত খন্দকারসহ আরও অনেকে।
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পার হয়ে গেলেও তার জনপ্রিয়তা ও ভক্তদের আগ্রহ এখনো অমলিন। তার অভিনয় শৈলী, ফ্যাশন সচেতনতা এবং রোমান্টিক উপস্থিতি নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের মনে যে প্রভাব ফেলেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও ভক্তদের আবেগকে নতুন আঙ্গিকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।
সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। নব্বইয়ের দশকের সেই সোনালী সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে অনেক দর্শক প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন। নির্মাতা ইভান মল্লিক আশা প্রকাশ করেছেন যে, সালমান শাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।
সিনেমার গল্পে নব্বইয়ের দশকের সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সালমান শাহকে ঘিরে গড়ে ওঠা ভক্তদের আবেগের নানা দিক ফুটে উঠেছে। এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং একজন প্রিয় নায়কের প্রতি একদল ভক্তের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সিনেমাটির নির্মাণ প্রক্রিয়া ও কলাকুশলীদের পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই সময়ের আবেগ ও পরিবেশকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
দেশের ২০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি এখন দর্শকদের দেখার জন্য উন্মুক্ত। সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পরও তার প্রতি মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আগ্রহের বিষয়টি এই সিনেমার মাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে।
