জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকার যদি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের ঘোষিত ছয় দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে। শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরুর প্রাক্কালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই লংমার্চের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জনগণের দাবিগুলো তুলে ধরা এবং নতুন করে কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পথ বন্ধ করা। নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাধারণ মানুষ ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরু হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই লংমার্চ কেবল ১১টি দলের নয়, বরং এটি বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লংমার্চ। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অবস্থান। এছাড়া যারা তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও এই লংমার্চ পরিচালিত হচ্ছে।
যারা জনগণের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব. ) অলি আহমদ বীর বিক্রম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
বক্তারা দাবি করেন, এই লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং সরকার যদি এতে বাধা দেয় তবে আন্দোলনের রূপরেখা বদলে যাবে। ১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চের মূল ছয়টি দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের তীব্র সংকট নিরসন করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা।
এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করার দাবিও এই ছয় দফার অন্তর্ভুক্ত। মতিঝিল থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যাত্রাপথে মোট পাঁচটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জোটের নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
নাহিদ ইসলাম জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা দলে দলে এই লংমার্চে অংশগ্রহণ করুন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে সরকার যদি গণতান্ত্রিক এই কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করে, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেবে এবং ছয় দফা দাবি সংকুচিত হয়ে এক দফায় রূপ নেবে।
লংমার্চের মাধ্যমে তারা দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের নেতারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন এবং দ্রুত দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে এবং জোটের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
