চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪,৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। হজ কার্যক্রম শেষে সৌদি আরবে অব্যয়িত থাকা এই অর্থ সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজ পালন করেছেন, তাদের খরচের একটি অংশ অব্যয়িত ছিল। এই উদ্বৃত্ত অর্থ স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত হজযাত্রীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ জানান, হজ ব্যবস্থাপনার ব্যয় পর্যালোচনার পর এই উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের জন্য নির্ধারিত খরচের বাইরে যে অর্থ খরচ হয়নি, তা নিয়ম অনুযায়ী ফেরতযোগ্য। এই অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
তিনি জানান, অর্থ ফেরতের এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজযাত্রীরা যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে পান, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় তদারকি করছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪,৩৪১ জন হজযাত্রীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
প্রতিটি হজযাত্রীর প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ তাদের হজ প্যাকেজের ব্যয় এবং প্রকৃত খরচের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া, পরিবহন এবং অন্যান্য সেবার খরচ প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হওয়ায় এই উদ্বৃত্ত অর্থের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে হিসাব করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী অর্থ ফেরতের পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ জানান, যারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করেছেন, তাদের সবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সংরক্ষিত আছে। তাই অর্থ ফেরতের জন্য হজযাত্রীদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হবে না। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন সবাই টাকা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হজ মৌসুমে সৌদি আরবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজ পালন করেছেন, তাদের সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই খরচের হিসাব স্বচ্ছ রাখা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ এবং সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি হজযাত্রীদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার জানান, হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া সেই লক্ষ্যেরই প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগের ফলে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সরকার প্রতি বছরই হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করে এবং হজযাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। এবারের হজ মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের অব্যয়িত অর্থ ফেরতের এই সিদ্ধান্তটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ ফেরতের কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সকল হজযাত্রী তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাবেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো ধরণের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থ ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানার থাকলে হজযাত্রীরা সরাসরি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।
