চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালনকারী চার হাজার ৩৪১ জন হাজিকে মোট চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সৌদি আরবে হজ পালনের সময় সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত খরচের বিপরীতে যে অর্থ অব্যয়িত ছিল, তা হাজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট বাজেট নির্ধারণ করা হয়। এই বাজেটের আওতায় বিমান ভাড়া, আবাসন, খাবার এবং সৌদি আরবে যাতায়াতসহ বিভিন্ন সেবার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। হজ শেষে যদি নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় খরচ কম হয়, তবে সেই উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাজিদের ফেরত দেওয়া হয়।
এ বছর চার হাজার ৩৪১ জন হাজি সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ সম্পন্ন করেছেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত খরচের হিসাব চূড়ান্ত করার পর দেখা গেছে যে, মোট চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা খরচ হয়নি। এই অর্থ এখন সংশ্লিষ্ট হাজিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজ পালন করেছেন, তাদের প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের ভিত্তিতে এই টাকা জমা দেওয়া হবে। হাজিদের কোনো বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই যেন এই অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
হজ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন সেবার খরচ কমানো সম্ভব হওয়ায় এই উদ্বৃত্ত অর্থ জমা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন এবং যাতায়াত খাতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এই অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীতেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে এবারের ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ এবং হাজিদের সংখ্যা বিবেচনায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সকল হাজি তাদের প্রাপ্য অর্থ নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন।
এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা জটিলতা যেন না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি করছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। হজ পালনের পর অবশিষ্ট অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি হাজিদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক এবং হাজিবান্ধব করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আরও বলেন, ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করার জন্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। হাজিদের সেবার মান বৃদ্ধি এবং খরচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পরিশেষে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ সম্পন্ন করেছেন, তারা যেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়মিত চেক করেন।
কোনো হাজি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ না পান, তবে তারা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া সরকারের একটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ, যা হাজিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
