জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে আয়োজিত লংমার্চের প্রাক্কালে সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার যদি এই লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাদের বর্তমান ছয় দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। লংমার্চ শুরুর আগে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি আরও বলেন, যেকোনো প্রতিকূলতা ও বাধা উপেক্ষা করে এই লংমার্চ নির্ধারিত গন্তব্য চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই সময় সারা দেশের মানুষ ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েছিল।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগে যাত্রা শুরু হয়েছে যাতে নতুন করে কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে। লংমার্চের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত চক্রের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, যারা জনগণের রায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এই লংমার্চ। তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি কেবল ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের লংমার্চ। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধ করা। শনিবার সকাল সাতটা থেকে শাপলা চত্বরে এই লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব. ) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লংমার্চের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রাপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একটি বিশাল জনসভার মাধ্যমে এই লংমার্চ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের সার্বিক সংকট নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, জনগণের অধিকার আদায়ে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই লংমার্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
লংমার্চে অংশ নেওয়া হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানান। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জোটের নেতারা। তারা মনে করেন, এই লংমার্চের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে এবং জনগণের দাবিগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা যাবে।
