জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই বিলটি পাস না করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, এই বিলটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি আইন হিসেবে পাস করা উচিত নয়।
সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে সরকারের অতীতের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, দেশের ৯৫ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না।
বর্তমান সরকার এই বিলটি পাসের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিলটির বিরোধিতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম এই আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে আজীবন ভোগদখলের শর্ত রেখে সম্পত্তি দান করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা ইসলামী শরিয়তের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ওলামায়ে কেরাম মনে করেন, এর ফলে আল্লাহ প্রদত্ত উত্তরাধিকার বা মিরাসি আইনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ব্রিটিশ আমলের ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই আইনেও মুসলমানদের উত্তরাধিকার, দান বা হেবা, বিবাহ এবং পারিবারিক বিষয়গুলো শরিয়ত অনুযায়ী পরিচালনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকৃত ছিল।
বর্তমান বিলটি সেই দীর্ঘদিনের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সংসদ সদস্য আরও বলেন, সন্তানরা মা-বাবার নামে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো যে সামাজিক সমস্যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এই সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে ইসলামিক পারিবারিক আইনকে পাশ কাটানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, বাবা-মায়ের অধিকার সুরক্ষার জন্য ২০১৩ সালে একটি আইন পাস করা হয়েছে। সেই আইনের মাধ্যমেই মা-বাবার অধিকার সুরক্ষা করা সম্ভব এবং নতুন করে এমন কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই যা শরিয়তের বিধানকে প্রভাবিত করতে পারে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত উত্তরাধিকার ও হেবার বিধান বাইপাস করার সুযোগ সৃষ্টিকারী এই আইনের পক্ষে যারা ভোট দেবেন, তাদের প্রত্যেককে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।
তিনি পুনরায় দাবি জানান যেন বিলটি প্রত্যাহার করা হয় এবং দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শরিয়তের বিধানকে সমুন্নত রাখা হয়। তার এই বক্তব্যের পর সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
