রাজধানী ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পাড়া-মহল্লার রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর রোববার বেলা ১১টার পর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হওয়া হালকা বৃষ্টিতেই নগরীর হাতিরঝিল, গুলশান ও মধ্যবাড্ডার মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোর সড়কগুলোতে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল পরিমাপযোগ্য নয়, তবুও সামান্য এই বৃষ্টিতেই নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা ফুটে উঠেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়কের এক পাশে বা কোথাও কোথাও পুরো সড়কজুড়েই পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষকে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচলের সময় জমে থাকা পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে, যা তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও কষ্টসাধ্য করে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাস্তা কাটাকাটির ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। হাতিরঝিল এলাকায় কর্মরত মোটরসাইকেল চালক সেলিম হোসেন জানান, আগে কেবল ভারী বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমতে দেখা যেত, কিন্তু বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচলের কারণে পথচারীদের কাপড় ভিজে যাওয়ার মতো বিড়ম্বনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবাড্ডা এলাকার সবজি বিক্রেতা হোসেন মিয়া জানান, আগে যেসব রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমতো না, এখন সেখানেও পানি জমে থাকছে, যা স্থানীয়দের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকার কথা বলা হয়েছে।
দুপুর ১২টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮২ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ছয় ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পরিমাপযোগ্য না হলেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করছে। নগরবাসী মনে করছেন, অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।
এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে ব্যাহত করার পাশাপাশি জনজীবনে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকার এই প্রবণতা এখন বাসিন্দাদের জন্য একটি নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে পানি জমে থাকার ফলে যান চলাচলেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা অফিসগামী ও সাধারণ পথচারীদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা তৈরি করেছে।
