সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে একজন অসুস্থ বৃদ্ধের জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ভিডিওটি ধারণ করেছেন ওই বৃদ্ধের ছেলের স্ত্রী। ভিডিওতে বৃদ্ধের মেয়েকে জমি লিখে নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্টারনেটে অনেকেই ওই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন এবং তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওটি ধারণকারী ব্যক্তি নিজেই ছেলের স্ত্রী হওয়ায় এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট পরিষ্কার না থাকায় অনেকেই এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভিডিওতে বৃদ্ধকে সরাসরি তার মেয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে শোনা যায়নি এবং তাকে রাগান্বিতও মনে হয়নি। এছাড়া ভিডিওতে কোনো আইনি দলিল বা নথিপত্রের প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী পেশায় একজন চিকিৎসক। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি তার বাবার দেখাশোনা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
ওই নারীর ছেলে, যিনি একজন শিক্ষার্থী, তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত মন্তব্য করে তার মায়ের নির্দোষ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তার মা নিয়মিত তার নানার খোঁজখবর রাখেন এবং দেখাশোনা করেন। ভিডিওটি প্রচারের পর থেকে ওই নারীকে নিয়ে যে ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে, তা মানহানিকর বলে মনে করছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার একতরফা ভিডিও দেখে বিচার করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা অনুচিত। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ধরনের ভিডিও তৈরি করা হতে পারে, যা প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে।
কোনো ঘটনার গভীরে না গিয়ে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য না শুনে কাউকে ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত করা সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মানহানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভিডিও শেয়ার করার ফলে একজন নির্দোষ ব্যক্তি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
তাই কোনো তথ্য বা ভিডিও দেখে দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। আবেগতাড়িত হয়ে কাউকে দোষারোপ করার আগে ঘটনার পেছনের কারণগুলো বিবেচনা করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।
