ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ থেকে চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রোববার রাতে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় বা তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। গত শনিবার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় পুলিশের এসবি সদস্য আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত আলতাফ হোসেন (৫৮) এসবির ঢাকা মালিবাগ জোনে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই হামলায় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দলের বাগবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনার একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি সপরিবারে আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ওই সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না বা হামলার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে সোমবার বিস্তারিত জানানো হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের একজন সদস্যের মৃত্যুতে বাহিনীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত আলতাফ হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
