ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলোর সঙ্গে একটি মৃত ভ্রূণ পাওয়া গেছে। মধ্য জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহত দম্পতির পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার বাসিন্দা নাজমা আক্তার এবং তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেন, যিনি নিশা পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট এই দম্পতি ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। গতকাল শুক্রবার ওই ভবনের অন্যান্য ভাড়াটেরা কক্ষটি থেকে পচা গন্ধ পান। তারা বিষয়টি ভবনের মালিককে জানান। ভবন মালিক প্রথমে ধারণা করেছিলেন যে কোনো বিড়াল মারা গিয়ে পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে গন্ধ আরও তীব্র হওয়ার পর মালিক ও ভাড়াটেরা মিলে গতকাল রাতে কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভেতরে প্রবেশের পর তারা খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের পাশেই একটি মৃত ভ্রূণ পাওয়া যায়। এই ঘটনার পর দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নিহত নাজমা আক্তারের বোন শাপলা বেগম জানিয়েছেন, তিনি এবং নাজমা একই কারখানায় কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি শেষবার তাঁর বোনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। শনিবার নাজমা কাজে না আসায় তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। শাপলা বেগম জানান, নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তাঁর ধারণা দম্পতিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে।
তাঁর দাবি, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে তাঁর বোনের সন্তানটি পেট থেকে বেরিয়ে এসেছে।
স্থানীয় ভাড়াটেরা জানিয়েছেন, নাজমা আক্তার স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন এবং আলমগীর হোসেন হকার হিসেবে কাজ করতেন। তারা যখন কক্ষটি ভাড়া নেন, তখন নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আলামত দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে যে এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তিনি আরও জানান, যে নারীর গর্ভপাত হয়ে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বের হয়ে এসেছে। এই গর্ভপাতটি হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে।
