বাংলাদেশের সংগীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাবিনা ইয়াসমীনের বিশেষ এই দিনে কনকচাঁপা তার সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন এবং তাকে বাংলাদেশের সংগীতের বাতিঘর হিসেবে অভিহিত করেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠের মাধুর্য এবং তার অসামান্য দক্ষতার প্রশংসা করে কনকচাঁপা বলেন, সাবিনা ইয়াসমীন কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।
কনকচাঁপা তার পোস্টে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ আব্দুল্লাহ আবু সাঈদের একটি স্মৃতিচারণমূলক ঘটনার উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছিল, কোকিল যেমন সারাবছর সুরের মূর্ছনায় প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখে, তেমনি সাবিনা ইয়াসমীন তার গানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে সারাজীবন উজ্জীবিত করে রেখেছেন। সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠের স্থায়িত্ব নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে কনকচাঁপা বলেন, পরিণত বয়সেও তিনি কীভাবে একই রকম কণ্ঠ ধরে রেখেছেন, তা গবেষণার বিষয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাবিনা ইয়াসমীন যদি তার ক্যারিয়ারে মাত্র তিনটি গান—জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো, সব কটা জানালা খুলে দাও না এবং একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার—এই গানগুলোও গাইতেন, তবুও তিনি একইভাবে মধুকণ্ঠী শিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকতেন। সাবিনা ইয়াসমীনের দীর্ঘ সংগীতজীবন এবং তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে কনকচাঁপা তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
সাবিনা ইয়াসমীন বাংলাদেশের সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। দেশাত্মবোধক গানের ক্ষেত্রে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বীকৃত। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য দেশাত্মবোধক গানের তালিকায় রয়েছে ও আমার বাংলা তোর, ও মাঝি নাও ছাইড়া দে, সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য, সেই রেল লাইনের ধারে এবং যদি মরণের পরে কেউ প্রশ্ন করে।
তার গাওয়া গানের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন হলেও বিভিন্ন তথ্যমতে তিনি অন্তত ১০ হাজার গান গেয়েছেন, যার একটি বড় অংশ শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে এ কী সোনার আলোয়, প্রেম যেন এক গোধুলি বেলার, মন যদি ভেঙ্গে যায় যাক, অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান, শুধু গান গেয়ে পরিচয় এবং চিঠি দিও প্রতিদিন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। চলচ্চিত্রের গানে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি বাচসাস পুরস্কার, উত্তম কুমার পুরস্কার, জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার ও শেরে বাংলা স্মৃতি পদক পেয়েছেন।
সাবিনা ইয়াসমীনের সংগীত জীবনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে জহির রায়হানের আগুন নিয়ে খেলা চলচ্চিত্রে। আলতাফ মাহমুদের সংগীত পরিচালনায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন। সেই থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তিনি আজ দেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তার জন্মদিনে সংগীতপ্রেমী ও সহশিল্পীরা তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন।
