তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন যে সাংবাদিকদের জন্য গঠিত কল্যাণ তহবিলের বরাদ্দ তিন গুণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শুক্রবার নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও উন্নত ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এর অংশ হিসেবেই কল্যাণ তহবিলের অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে অপসাংবাদিকতা রোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে ‘রফিক হেলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস ও এসএসসি-দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।
এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা এবং কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ‘রফিক হেলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিলের বরাদ্দ বৃদ্ধির এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এল যখন গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে জোরালোভাবে উঠে আসছে। সরকার এই তহবিলের মাধ্যমে অসুস্থ, দুস্থ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের সহায়তা প্রদান করে থাকে। বরাদ্দের পরিমাণ তিন গুণ বৃদ্ধি পেলে এই সহায়তা কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে, তবে সেই স্বাধীনতা যেন দায়িত্ববোধের সাথে চর্চা করা হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অপসাংবাদিকতা বা ভুল তথ্য পরিবেশন রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে ‘রফিক হেলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম’ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকার ও স্থানীয় পর্যায় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সামগ্রিকভাবে, এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিলের বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য আরও কী কী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
তবে বর্তমান এই ঘোষণাটি সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
