দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপি, ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনি এবং যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারের সম্পদের হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই তিনজনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদঘাটন এবং আয়ের উৎসের সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। একই প্রক্রিয়ায় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির বিরুদ্ধে ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দুদক।
তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সঠিক হিসাব বের করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবুল বাশারের মালিকানাধীন ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তার নামে আরও বেনামি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থাকতে পারে বলে কমিশন ধারণা করছে। তাই তার অর্জিত সব সম্পদের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুদক তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্পদ বিবরণী দাখিলের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে। এই নির্দেশনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাদের অর্জিত সম্পদের বৈধতা প্রমাণ করতে হবে। দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই তিনজনকে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পাওয়া অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব পাওয়ার পর তা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
