সাবেক ডিআইজি আতিকা ইসলামের স্বামী এবং লাক্সিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই সম্পদের উৎস ও সঠিক হিসাব যাচাই করার জন্য তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার ৬ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরের আর্থিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই সাত বছরের দীর্ঘ সময়ে তার মোট আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ১ কোটি ১৬ লাখ ১৯৮ টাকা।
একই সময়ে তার পারিবারিক জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অন্যান্য খাতে মোট ৫২ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৯ টাকা খরচ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয় থেকে ব্যয় বাদ দিলে তার নিট সঞ্চয় থাকার কথা ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকা। তবে অনুসন্ধানকালে দুদক তার নামে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তার বৈধ আয় ও সঞ্চয়ের সঙ্গে এই সম্পদের তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বৈধ আয়ের ভিত্তিতে তার যে পরিমাণ সম্পদ থাকার কথা, তা বাদ দিলে অতিরিক্ত ২ কোটি টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এই অতিরিক্ত ২ কোটি টাকাকেই দুদক জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরের নামে এবং বেনামে আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ এবং এসব সম্পদের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নোটিশ পাওয়ার পর তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দুদকের কাছে জমা দিতে হবে। সম্পদ বিবরণী দাখিলের পর কমিশন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরের আয়ের উৎস এবং তার অর্জিত সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, যদি সম্পদ বিবরণীতে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায় বা তিনি সম্পদের উৎস প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তবে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে দুদক তার সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাবের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে তারা কাজ করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ব্যক্তির অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে তার দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
