স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটাররা তাদের বর্তমান আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটার স্থানান্তরের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ সময়সীমা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভোটারদের এই সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের আবেদন জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন উপলক্ষে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মূলত যারা বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন, সেখান থেকে অন্য এলাকায় স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছেন, তারা এই সুযোগ গ্রহণ করে তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন তাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দাখিল, ইস্যুকরণ এবং দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে।
৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন দাখিল করার পর, পরবর্তী ধাপ হিসেবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাখিল করা আবেদনগুলো ইস্যু করা হবে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দাখিল করা আবেদনগুলো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটাররা তাদের বর্তমান আবাসস্থলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে পারবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটাররা তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলা হয়েছে যাতে কোনো ভোটার যেন কোনো ধরনের জটিলতার সম্মুখীন না হন।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। যারা আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক, তাদের এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, ১০ সেপ্টেম্বরের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ বা নিষ্পত্তি করা হবে না।
তাই আগ্রহী ভোটারদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা নির্ভুল করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের এই সুযোগটি সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে পাঠানো এই চিঠিতে মাঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সাথে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাররা তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে ভোট প্রদান করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সময়সূচি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রচারণার ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। ভোটারদের সুবিধার্থে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সময়সীমা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
