সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা এক নারী প্রার্থীর শিশুকে দেখাশোনা করে সহায়তা করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নারী পুলিশ সদস্য। গত শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের অধীনে আয়োজিত এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা ওই নারী প্রার্থী তার দুধের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে এসেছিলেন।
পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলে শিশুটিকে কার কাছে রেখে পরীক্ষা দেবেন, তা নিয়ে ওই পরীক্ষার্থী চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
একদিকে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং অন্যদিকে ছোট শিশুর দেখাশোনার প্রয়োজনীয়তা ওই নারী প্রার্থীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের নজরে বিষয়টি আসার পর দায়িত্বে থাকা নারী পুলিশ কনস্টেবল শিল্পী এগিয়ে আসেন। তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রদান করেন।
কনস্টেবল শিল্পী স্নেহভরে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এবং পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশুটির দেখাশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ সদস্যের কোলে নিরাপদ বোধ করায় শিশুটিও শান্ত থাকে, যার ফলে শিশুর মায়ের উদ্বেগ দূর হয়। এর ফলে ওই নারী প্রার্থী নিশ্চিন্ত হয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একজন পুলিশ সদস্যকে সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা হয়। তবে কনস্টেবল শিল্পীর এই আচরণ দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার একটি উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। একজন নারী পরীক্ষার্থীর অসহায়ত্ব বুঝে তার শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এই ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলার গণ্ডি পেরিয়ে কনস্টেবল শিল্পীর প্রশংসা শুরু হয়। অনেক মানুষ মনে করছেন, পুলিশ শুধু একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, বরং মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোও তাদের দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কনস্টেবল শিল্পীর এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের মানবিক দৃষ্টিকোণ আরও ইতিবাচকভাবে ফুটে উঠেছে। একজন নারী প্রার্থী যাতে তার সন্তানের দেখাশোনার সমস্যার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা তিনি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করেছেন। পুলিশের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক পরিচয়কে এই ঘটনার মাধ্যমে আরও উজ্জ্বল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
