চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারী এবং দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি হয়, যার ফলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত একই স্থানে একই সময়ে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের জন্য কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
একই স্থানে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ উভয় পক্ষকে আলাদা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের বেলা দুইটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুন স্টার ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন। অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ক্লাব থেকে কিছুটা দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।
বেলা একটার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার পর কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বেলা দুইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করেন।
প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের ফলে উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে সীতাকুণ্ড থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তবে আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে এবং পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম নগরের অলংকার ও সীতাকুণ্ড রুটে মিনিবাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিক সমিতি। পরিবহন মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. খোরশেদ আলম জানান, তাদের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, তাই পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দাবি করেছেন, তাঁরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি পালন করছিলেন, কিন্তু আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ধারালো অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরসালিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের কর্মসূচি মুন স্টার ক্লাবের পরিবর্তে এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
