পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন যে সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের ছোট করা উচিত নয়। তিনি শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলমান—সবাই বাংলাদেশি এবং নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে যারা বসবাস করেন তারা পাহাড়ি বা আদিবাসী এবং আমরা যারা মুসলমান ধর্মের অনুসারী তারা মুসলমান। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা সবাই বাংলাদেশি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংখ্যালঘু বলতে কোনো ধারা বা শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের ছোট করা যাবে না, কারণ এতে পুরো জাতি ছোট হয়।
ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তার বক্তব্যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতির সূচনা করেছিলেন এবং দেশ সৃষ্টির পর সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ উপহার দিয়েছিলেন।
সেই রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশ পরিচালনা ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ চলছে বলে তিনি জানান। বর্তমান সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, তারা মাত্র ছয় মাস হলো নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারা শপথ গ্রহণ করেন।
এই অল্প সময়ের মধ্যে সমাজে আমূল পরিবর্তন আনা বা সব ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের উদ্যোগ মহৎ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাজকে উন্নত জীবনযাপনের উপযোগী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালনের তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কংসের কারাগার ছিল অত্যাচারের প্রতীক এবং সেই কারাগারেই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। সমাজের অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং মানবতার কল্যাণ সাধনই এই দিনটির মূল শিক্ষা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী ফিতা কেটে জন্মাষ্টমীর একটি বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন। র্যালিটি জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উল আলম ভূঁইয়া, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শৈবাল কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ দুলাল দাস, জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মাখন লাল সাহা ও সদস্য সচিব উত্তম দেবনাথসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
