জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে স্কুলশিক্ষক রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কাউকে মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট শুরু থেকেই কাজ করছে। তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কাউকে মূল অপরাধী বলা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ১২টি ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
ফলে তাকে নির্দোষ বলার সুযোগ নেই। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রতিটি বিষয় বিশদভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংসদ ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত এলাকায় এমন ঘটনার পর পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে তদন্তে যদি কোনো ধরনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আগে থেকেই বাস টার্মিনাল, হাসপাতাল এবং জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের টহল ছিল। তবে এই ঘটনার পর ডিএমপি কমিশনারের বিশেষ নির্দেশনায় টহল দলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেসব স্থানে একটি টহল দল কাজ করত, এখন সেখানে তিনটি টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের টিমের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মোটরসাইকেল টহল টিমও মাঠে নামানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বিশাল আয়তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ তার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রনজিলা পারভীন চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন এবং চিকিৎসাসেবা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
