শিল্প ও সাহিত্যের ত্রৈমাসিক পত্রিকা নিহারণ-এর নতুন সংখ্যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এটি পত্রিকাটির ১৩তম বর্ষের ষষ্ঠ সংখ্যা, যা ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বাজারে এসেছে। পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন কবি ও গবেষক বঙ্গ রাখাল। এছাড়া সহকারী সম্পাদক হিসেবে বায়েজিদ চাষা এবং প্রকাশকের দায়িত্বে নিশিতা খাতুন কাজ করছেন।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে সবুজস্বর্গ প্রকাশনী থেকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হয়েছে। সাড়ে তিন ফর্মা কলেবরের এই পত্রিকার শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে একশ টাকা। দীর্ঘ পাঁচ-ছয় বছরের বিরতির পর পত্রিকাটি পুনরায় নিয়মিত প্রকাশনার ধারায় ফিরে এল। নিহারণ দীর্ঘদিন ধরে নবীন লেখকদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের কবি ও লেখকদের সাহিত্যকর্ম মূলধারায় পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান সংখ্যায় প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গুচ্ছকবিতা, একক কবিতা এবং একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার স্থান পেয়েছে। এই সংখ্যায় মোট পাঁচজন লেখকের পাঁচটি প্রবন্ধ ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। অনিরুদ্ধ হিল্লোল তার প্রবন্ধে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তির লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। রণভী শের তার নিবন্ধে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিকাশে রাষ্ট্রের ভূমিকা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোকপাত করেছেন।
ড. ফুয়াদ হোসেন উচ্চশিক্ষায় আউটকাম বেজড এডুকেশন বা ওবিই পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা তুলে ধরেছেন। এছাড়া শিশির আজম বাংলা সিনেমার নন্দনতত্ত্ব নিয়ে এবং মাকসুদুল হক সাধক সিরাজ সাঁইয়ের জীবন ও দর্শন নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। পত্রিকার এই সংখ্যায় কবি ও গবেষক সৈয়দ তারিকের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে।
বঙ্গ রাখালের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সৈয়দ তারিক বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি তার বক্তব্যে ধর্মের আধ্যাত্মিক দিক এবং সুফিবাদের মরমি ধারার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কবিতার বিভাগে সাতজন কবির গুচ্ছকবিতা এবং নয়জন কবির নয়টি একক কবিতা স্থান পেয়েছে। মোস্তফা তারিকুল আহসান, লতিফ জোয়ার্দার, মামুন রশীদ, শামীম রফিক, চঞ্চল নাঈম এবং এস এম কাইয়ুমসহ বেশ কয়েকজন কবির কবিতা এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
কবিতাগুলোতে জীবনবোধ, নস্টালজিয়া, মৃত্যুচেতনা, নগর জীবনের সংকট এবং উত্তরাধুনিক চিন্তা ফুটে উঠেছে। এছাড়া বায়েজিদ চাষা, সুমন শিকদার, আরশি গাইন, রায়হান উল্লাহ, রাকিব হাসান, মিজান খান, অনু ইসলাম, সজল রায়, নাজমুল হোসেন নয়ন ও যাহিদ সুবহানসহ আরও অনেক কবির কবিতা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা ও ভাষার প্রয়োগে লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।
নিহারণ তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সংখ্যাটি সমকালীন সমাজ ও জীবনকে ধারণ করে বাংলা সাহিত্যের উত্তরাধুনিক রূপরেখা তৈরিতে অবদান রাখবে। ছোটকাগজ হিসেবে নিহারণ তার নিজস্ব ধারায় সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
