সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি পালন করছেন ভক্তরা। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও মঠগুলোতে বিশেষ পূজা, প্রার্থনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মবৃত্তান্ত অনুযায়ী, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে পৃথিবীতে ধর্ম ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরা নগরীতে কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভাদ্র মাসের এই বিশেষ তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, যখনই পৃথিবীতে অধর্ম ও অনাচার বৃদ্ধি পায়, তখনই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং সনাতন ধর্ম রক্ষা করেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের সমাগম দেখা গেছে। ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে বিশেষ পূজা ও প্রার্থনা করছেন। অনেক স্থানেই শঙ্খধ্বনি, কাঁসর ও ঢোলের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। শ্রীকৃষ্ণের শৈশব ও লীলা নিয়ে বিভিন্ন ভজন ও কীর্তন পরিবেশন করছেন ভক্তরা। গোকুলের সেই আনন্দঘন মুহূর্তকে স্মরণ করে ভক্তরা বাঁশির সুর ও কৃষ্ণনামের জয়ধ্বনিতে মেতে উঠেছেন।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের জীবনের আদর্শ ও বাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে এসব অনুষ্ঠানে বক্তারা ধর্ম ও সত্যের পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ভক্তরা মনে করেন, শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মন্দিরগুলোতে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে মথুরা ও বৃন্দাবনের আদলে বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণের জন্মলীলার প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। ভক্তরা এই দিনটিতে উপবাস পালন করেন এবং মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম মুহূর্তকে কেন্দ্র করে বিশেষ পূজা ও আরতি সম্পন্ন করেন।
অনেক ভক্তই এই দিনে মন্দিরে গিয়ে প্রসাদ গ্রহণ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে ভক্তদের মনে এক বিশেষ ভক্তির সঞ্চার হয়। তারা বিশ্বাস করেন, শ্রীকৃষ্ণের চরণে শরণ নিলে পাপী ও তাপী ব্যক্তিরাও মুক্তি লাভ করতে পারেন। ধর্ম রক্ষার্থে শ্রীকৃষ্ণের এই পৃথিবীতে আগমন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আজ সারা দেশে এক ধর্মীয় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
ভক্তরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই দিনটি পালন করছেন এবং শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ কামনা করছেন। এই উৎসবের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক, এমনটাই প্রত্যাশা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
