সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ব্যানার টানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্রশক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ব্যানারগুলো স্থাপন করা হয়েছে। শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন খাতের ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক একটি ব্যানার স্থাপন করেন। এই ব্যানারে সরকারের ১৮০ দিনের ২১টি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের দাবি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে।
এছাড়া শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা বন্ধ এবং সরকারি অপচয় রোধের বিষয়টি ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রদলের ব্যানারে আরও বলা হয়েছে যে, এই সময়ে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং জুলাই মাসের ঘটনার প্রেক্ষিতে যোদ্ধাদের সুরক্ষায় দায়মুক্তি আইন পাস করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও আইন সংস্কার, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক সাফল্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবহন ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন, ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রীড়া উন্নয়ন এবং পানিব্যবস্থাপনা ও নদী রক্ষার মতো বিষয়গুলো ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও গোলচত্বর এলাকায় জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের যত ব্যর্থতা’ শীর্ষক দুটি ব্যানার টানানো হয়েছে।
ছাত্রশক্তির ব্যানারে সরকারের ৩৫টি ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের সার্বিক অবস্থার অবনতি, জ্বালানি খাতে ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতের সংকট, ব্যাংক দখল ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং শিক্ষাঙ্গণে নৈরাজ্যের অভিযোগও ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছে।
এই বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রশিদ আবরার জানান, ক্যাম্পাসে সরকারের সাফল্য প্রচারের বিপরীতে তারা প্রকৃত সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করাই তাদের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, বিএনপির অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই তারা ব্যানারে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেছেন।
তিনি দাবি করেন, ব্যানারে কোনো অতিরঞ্জিত তথ্য দেওয়া হয়নি বরং ৪৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ সেখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি ব্যানার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে সরকারের কার্যক্রমকে দুই সংগঠন দুইভাবে মূল্যায়ন করছে। একদিকে ছাত্রদল সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে সামনে নিয়ে আসছে, অন্যদিকে ছাত্রশক্তি সরকারের বিভিন্ন খাতের দুর্বলতা ও ব্যর্থতাকে জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই এই ব্যানারগুলো প্রদর্শন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
