ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ এবং অভিনেত্রী শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের পর্দার রসায়ন এবং বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হয়। এমনকি সালমান শাহ শাবনূরকে বিয়ে করেছেন বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রচার করা হয়।
এই গুঞ্জনগুলোর প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহ এবং তার বাবা এ কিউ চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহ স্পষ্টভাবে শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের খবরটি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, শাবনূরকে তিনি ছোট বোনের মতো স্নেহ করেন এবং তার সঙ্গে তার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নেই।
সালমান শাহ তার বক্তব্যে নিজের বৈবাহিক অবস্থান পরিষ্কার করে জানান যে তিনি বিবাহিত। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু সাপ্তাহিক পত্রিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ও শাবনূরের বিয়ের গুজব ছড়াচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযোজক সমিতির নিষেধাজ্ঞা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা।
সেই সময়কার ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রযোজক সমিতি সালমান শাহকে দুই সপ্তাহের জন্য এফডিসিতে নিষিদ্ধ করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ ছিল একটি মন্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে আগে জানলে তিনি টাকা দিয়ে পুরস্কার কিনতেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহের বাবা এ কিউ চৌধুরী তার ছেলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন যে, তিনি তার সন্তানকে খুব ভালোভাবে চেনেন এবং সালমান এমন কোনো কাজ করতে পারেন না যা তার পারিবারিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। শাবনূরকে নিয়েও তিনি তার পরিচিতির কথা উল্লেখ করেন।
এ কিউ চৌধুরী দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, সালমান শাহের বিরুদ্ধে কেউ হয়তো গভীর কোনো ষড়যন্ত্র করছে। তিনি মনে করেন, জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই এই ধরনের ভিত্তিহীন গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আমার সন্তানকে জানি। শাবনূরকেও আমি চিনি। সালমান এ কাজ করতেই পারে না। নিশ্চয়ই কেউ ওর বিরুদ্ধে চক্রান্তে নেমেছে।
সালমান শাহের এই সংবাদ সম্মেলনটি সেই সময়ের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অস্থিরতা এবং তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গণমাধ্যমের আগ্রহের একটি বড় উদাহরণ। সালমান শাহ এবং শাবনূর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল জুটি হিসেবে পরিচিত। তাদের অভিনীত সিনেমাগুলো দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তবে পর্দার বাইরের সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো এই গুঞ্জনগুলো সেই সময়কার চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
সালমান শাহের বাবা এ কিউ চৌধুরীর এই বক্তব্যটি সেই সময়ে তার ছেলের প্রতি তার অগাধ আস্থা এবং পারিবারিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। সালমান শাহের ক্যারিয়ারের সেই উত্তাল সময়ে প্রযোজক সমিতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত জীবনের এই বিতর্কগুলো তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহের দেওয়া বক্তব্য এবং তার বাবার সমর্থন সেই সময়কার চলচ্চিত্র জগতের একটি বড় ঘটনার দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
সালমান শাহের অকাল মৃত্যুর পর তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আজও নানা আলোচনা হয়, যার মধ্যে এই গুঞ্জন এবং তার প্রেক্ষিতে দেওয়া এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টিও বারবার উঠে আসে।
