জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আজ শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার শিমরাইলে আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। তিনি জানান, সরকার ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না বলে তিনি দাবি করেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে অবস্থান করবেন।
এই পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান ২০২৪ সালে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছিলেন সাধারণ মানুষ এবং তাদের সঙ্গীরা। তার মতে, সেই সময়ের দাবিগুলো এখনো পূরণ হয়নি এবং সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা রাজপথে নেমেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দাবিগুলো পূরণ করে তারা ঘরে ফিরবেন।
জামায়াতের আমির গণভোটের গণরায় এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। এছাড়া তিনি সাধারণ মানুষের ঘরে গ্যাস এবং বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য এই লংমার্চের ডাক দিয়েছেন বলে জানান।
শফিকুর রহমান ১১-দলীয় জোটের ঐক্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ১১ দল এখন জনগণের পাশে আছে এবং জনগণও ১১ দলের সঙ্গে আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, তাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সফল হবে এবং এর মাধ্যমে তারা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারবেন।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিতে আজ সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। এই লংমার্চের পথে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে আয়োজিত পথসভায় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। শফিকুর রহমান তার বক্তব্য শেষ করার পর লংমার্চটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
এই পথসভায় মাওলানা আবদুল জব্বার সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব. ) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল মঈনুদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন।
শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে সরকারের বর্তমান কার্যক্রমের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন যে এই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জানান, যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল তা রক্ষা করা না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই লংমার্চের মূল লক্ষ্য হলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখা। শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারা জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে ensure করতে পারবেন। তিনি মনে করেন, এই ১১-দলীয় জোটের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই পারে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং এই আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জন করতে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্র দলগুলো সরকারের বর্তমান নীতিমালার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ জানাতে চায়। তারা মনে করেন যে, এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা এই আন্দোলনের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এই পথসভায় উপস্থিত নেতাদের কথা থেকে বোঝা যায় যে, এই জোটের এই কর্মসূচিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা এই লংমার্চের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়াকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
