ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খানের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সংগ্রাম এবং বর্তমান সময়ের সাফল্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক এবং অভিনেতা জ্যাকি আলমগীর। দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত থাকা এই অভিনেতা সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় শাকিব খানের উত্থান ও ইন্ডাস্ট্রির সাথে তার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জ্যাকি আলমগীর জানান, শাকিব খান তার অভিনয় জীবনের শুরুতে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে যখন তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান, তখন তাকে বাসে করে শুটিং স্পটে যাতায়াত করতে হতো। সেই সময় থেকে ধাপে ধাপে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে জ্যাকি আলমগীর উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শাকিব খানের এই দীর্ঘ পথচলা সহজ ছিল না এবং তাকে নানা ধরনের সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই কর্মকর্তা দাবি করেন যে, এক সময় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষরাই শাকিব খানকে এফডিসিতে একটি নির্বাচনের সময় লাঞ্ছিত করেছিলেন। তিনি এই ঘটনাকে ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসের একটি নেতিবাচক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
জ্যাকি আলমগীরের মতে, সেই সময়কার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি কলঙ্কজনক বিষয় ছিল। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জ্যাকি আলমগীর জানান, শাকিব খান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দূরে অবস্থান করছেন। পাঁচ-সাত বছর আগেও তাদের মধ্যে যে ধরনের যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা ছিল, এখন তা আর নেই।
শাকিব খান এখন নিজের একটি আলাদা জগৎ তৈরি করে নিয়েছেন এবং তার মেধা, বুদ্ধি ও আর্থিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জ্যাকি আলমগীরের ভাষ্যমতে, শাকিব খান এখন এমন একটি উচ্চতায় পৌঁছেছেন যেখানে তার সাথে অন্যদের যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শাকিব খানের বর্তমান সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জ্যাকি আলমগীর একটি ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে শাকিব খানকে যে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল, বর্তমানের এই বিশাল সাফল্য যেন সেই ঘটনারই এক ধরনের নীরব প্রতিশোধ। জ্যাকি আলমগীরের মতে, শাকিব খান নিজেকে সবার চেয়ে অনেক উঁচুতে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে সেই পুরনো অপমানের জবাব দিচ্ছেন।
তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, এটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব ব্যক্তিগত ভাবনা এবং শাকিব খান নিজে এমন কোনো কথা বলেননি। তার এই ধারণাটি ভুল বা সত্য না হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, জ্যাকি আলমগীর ১৯৮২ সাল থেকে চলচ্চিত্র শিল্পে নিয়মিত অভিনয় করছেন।
তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি ‘লড়াকু’, ‘বজ্রমুষ্টি’, ‘আম্মাজান’, ‘প্রেম দিওয়ানা’ এবং ‘কাবুলিওয়ালা’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কৌতুকাভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্বশীল পদে থেকে ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছেন। শাকিব খানের ক্যারিয়ারের শুরুর সেই কঠিন সময় এবং বর্তমানের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মধ্যকার এই বৈপরীত্য নিয়ে জ্যাকি আলমগীরের এই বক্তব্য চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের একজন মানুষ হিসেবে তার এই পর্যবেক্ষণ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মূলত শাকিব খানের প্রতি অতীতের আচরণ এবং বর্তমানের সাফল্যের যে যোগসূত্র তিনি টেনেছেন, তা নিয়ে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে নানা ধরনের কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
