লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভ দাসের মরদেহ দেশে ফিরেছে। মৃত্যুর তিন মাস ২৫ দিন পর রোববার সকালে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। রোববার সকাল ১০টার দিকে মরদেহটি তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরের দিকে নিজ গ্রামেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় শুভ দাস নিহত হন। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। প্রায় আড়াই বছর আগে শুভ দাস লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন। দরিদ্র পরিবারের অভাব দূর করার আশায় তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন।
পরিবারের আর্থিক অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি বিদেশে যাওয়ার জন্য পরিবারের দুই শতক বসতভিটা বিক্রি করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা ছিল, শুভ বিদেশে কাজ করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের কাউন্সিলর মইন উদ্দীন জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিহত শুভ দাসের পরিবারের হাতে ইতিমধ্যে ৮৫ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মাসের মধ্যেই পরিবারটিকে আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে জীবনবিমার আওতায় পরিবারের জন্য আরও আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরা জেলার মোট তিনজন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শুভ দাসের আগে আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকাচাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম একই ধরনের হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
শুভ দাসের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিথর দেহ ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তার বাড়িতে ভিড় করেন। শুভ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস পাওয়ার পর পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, বিদেশে কর্মরত অবস্থায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর। শুভ দাসের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
দাফন বা শেষকৃত্যের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা স্থানীয়ভাবে প্রদান করা হচ্ছে। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। শুভ দাসের মৃত্যুর ঘটনাটি তার পরিবার ও এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখা দিয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা এখন সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জীবনবিমার মাধ্যমে যে অনুদান পাওয়ার কথা রয়েছে, তার অপেক্ষায় আছেন।
শুভ দাসের অকাল মৃত্যুতে তার গ্রাম ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
