সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জন্য ১১ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন সদরদপ্তর ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই ব্যয়ের প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ভবনটি নির্মাণের জন্য ই-জিপি বা ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব জমা দেয়। এর মধ্যে কারিগরি মূল্যায়নের পর ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় এই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছিল। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের আওতায় ১৫ তলা ভিত্তির ওপর ১১ তলা বিশিষ্ট র্যাব সদরদপ্তর ভবনটি নির্মাণ করা হবে। ভবনটির নকশায় মহাপরিচালকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কক্ষের পাশাপাশি তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা বা বেসমেন্ট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নিচতলায় গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সদরদপ্তর ভবনের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় আরও বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট ম্যাগাজিন ও কোর্ট ভবন এবং তিনতলা বিশিষ্ট উপকেন্দ্র ভবন। এছাড়া প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে গুদাম, পাম্প ও জলাধার, গভীর নলকূপ এবং পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভবনের অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, গাড়ি ধোয়ার আধুনিক ব্যবস্থা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেমও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতার জন্য সালামি মঞ্চ নির্মাণের বিষয়টিও নকশায় রাখা হয়েছে। ভবনটিকে আধুনিক ও কার্যকর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বহির্বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, লিফট সুবিধা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় নেটওয়ার্ক বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দাপ্তরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো র্যাবের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি আধুনিক, সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল অবকাঠামো গড়ে তোলা। দীর্ঘমেয়াদী এই নির্মাণযজ্ঞ শেষ হলে র্যাবের প্রশাসনিক ও অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি অব্যাহত রাখবে।
প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনুমোদিত বাজেটের মাধ্যমে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই অবকাঠামো নির্মাণের ফলে র্যাবের দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।
প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
