রংপুর নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন নগরের ঘাঘট নদীতে শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হোসেননগর যুব সমাজের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
নদীমাতৃক বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে এবং বিনোদনের সুস্থ মাধ্যম হিসেবে প্রতি বছর স্থানীয়ভাবে এই আয়োজনের কথা organizers বলেন। এই প্রতিযোগিতার জন্য রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ আশপাশের জেলা থেকে আসা মাঝি-মাল্লাদের আটটি দল অংশ নিয়েছে।
শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার জন্য নদীর দুই তীরে শত শত মানুষের উপচেপড়া ভিড় জমেছিল। দুপুর থেকেই নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ সব বয়সের মানুষ ঘাঘট নদীর তীরে সমবেত হন। দর্শনার্থীরা নদীর পাড় এবং গাছের ডালে বসে এই খেলা উপভোগ করেন। প্রতিযোগীদের উৎসাহব্যঞ্জক গান এবং বাইচ দলের তরুণদের বৈঠার ছন্দে পুরো নদীর তীর মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতার শেষ মুহূর্তে দলগুলোর গতি এবং উত্তেজনায় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়ন থেকে আসা মাঝি নুরুল ইসলাম জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি প্রথমবারের মতো রংপুরে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন যে, ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য প্রতি বছর এমন আয়োজন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে এই দিনে একটি মেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে হাজারও মানুষের সমাগম হয়েছে। দর্শনার্থীরা রঙ-বেরঙের সাজানো দৃষ্টিনন্দন নৌকা এবং মাঝি-মাল্লাদের সুরের প্রতি আকৃষ্ট হন। দর্শনার্থী এবং স্থানীয়রা আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই নৌকা বাইচ উৎসবের আয়োজন করার দাবি জানিয়েছেন।
দর্শনার্থী রাব্বী হাসান বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে তামপাট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি বর্তমানে রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকা। তিনি জানান যে, এই এলাকা এবং আশপাশের ওয়ার্ডগুলোতে বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। প্রতি বছর এই নৌকা বাইচ বিনোদনপ্রেমীদের মনের খোরাক যোগায় এবং এমন ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে পেরে সকলে আনন্দিত।
তিনি এই আয়োজন যেন আরও বড় পরিসরে হয় বলে আশা প্রকাশ করেন। n
আয়োজকরা জানান, ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ধরে রাখতে হলে আগে নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তারা বলেন যে, নদী না বাঁচলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ হারিয়ে যাবে এবং এর সাথে নদী কেন্দ্রিক ঐতিহ্য, পেশা, জীবন ও প্রকৃতিও হারিয়ে যাবে। আয়োজকরা দ্রুত তিস্তা, তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, যমুনেশ্বরী, আখিরা, করতোয়া ও শ্যামাসুন্দরীসহ সব নদ-নদী ও খাল খনন, শাসন ও সঠিক পরিচর্যার দাবি জানিয়েছেন।
আয়োজক কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ জানান, ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ঘাঘটে নৌকা বাইচ হয়ে আসছে। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য পারে ধরে রাখতে হোসেননগর যুব সমাজ এই নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে। আগামীকাল প্রতিযোগিতার ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
