রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন রাজশাহীতে একটি পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিং বা সবুজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ জিয়া শিশু পার্কের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্টের আওতায় এই ভবনটি নির্মিত হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। ভবনটির মোট আয়তন তিন হাজার ৭৫ দশমিক ৪২ বর্গফুট। পাঁচ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুই তলা বিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে চার কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৪ টাকা। ভবনের নকশা অনুযায়ী, নিচতলায় দোকানঘর এবং দ্বিতীয় তলায় একটি হলরুম, কমিউনিটি স্পেস ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সোনাদিঘী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ক্বারী মো. মামুনুর রশীদ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ভবনটি নির্মাণে পরিবেশবান্ধব হলোব্লক ব্যবহার করা হবে। ভবনটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নিজস্ব সোলার প্যানেল ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ভবনের আলোকায়নের চাহিদা মেটানো হবে।
প্রকৌশল বিভাগের দাবি অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে এটিই প্রথম গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এতে বিশেষায়িত তাপরোধী গ্লাস ব্যবহার করা হবে। এছাড়া ভবনের ছাদে তাপরোধী রঙের কোটিং দেওয়া হবে, যা ভবনটিকে প্রাকৃতিকভাবে শীতল রাখতে সহায়তা করবে। ভবনটির সম্মুখভাগে ভার্টিক্যাল গার্ডেনিং বা উল্লম্ব বাগান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবনটিকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কথা বিবেচনায় রেখে ভবনটিতে পৃথক টয়লেট এবং লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ভবনটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের একটি নতুন ধারা সূচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দিন আরজু এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহেদুজ্জামান জীবনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজশাহীর নগর অবকাঠামোয় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে তা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে।
বিশেষ করে কমিউনিটি স্পেস এবং ব্রেস্টফিডিং কর্নার নারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করবে। ভবনটির প্রতিটি তলা এবং এর আশেপাশের পরিবেশকে পরিবেশবান্ধব রাখার জন্য প্রকৌশল বিভাগ বিশেষ নজর দিচ্ছে। সোলার প্যানেল ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম থাকবে। গ্রিন বিল্ডিংয়ের এই ধারণাটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে এবং রাজশাহীতে এর প্রয়োগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
