রাজশাহী নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকায় প্রশাসনের উদ্যোগে পুনরুদ্ধার করা প্রায় দুই বিঘা আয়তনের একটি পুকুর আবারও মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। গত বছর পুকুরটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুকুরটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল।
তবে পুনরুদ্ধারের কয়েক মাস না যেতেই আবারও সেখানে মাটি ফেলে ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুকুরটি পুনরুদ্ধারের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে আবারও সেখানে মাটি ফেলা হচ্ছে। এতে পুকুরটির অস্তিত্ব ফের হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের অভিযান ও পুনরুদ্ধারের পরও একই স্থানে আবার মাটি ফেলার ঘটনা ঘটায় পুকুর রক্ষায় কার্যকর ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান জানান, গত বছর পুকুরটি ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে অভিযান চালিয়ে ভরাটের কাজ বন্ধ করা হয় এবং পুকুরটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু অভিযানের পর নিয়মিত নজরদারি না থাকায় আবারও পুকুরে মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
নিয়মিত নজরদারি না থাকলে পুকুরটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুকুল আলী। তিনি বলেন, প্রশাসন একবার পুকুর ভরাট বন্ধ করে দেওয়ার পরও আবার সেখানে মাটি ফেলা হচ্ছে। আরেক বাসিন্দা আরাফাত হোসেন বলেন, আগে নগরীতে অনেক পুকুর ছিল। এখন বাড়িঘর ও ভবন নির্মাণের কারণে একের পর এক পুকুর হারিয়ে যাচ্ছে।
এর ফলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা হচ্ছে। নতুন যোগদান করেছেন জানিয়ে রাজশাহী বোয়ালিয়া থানার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাহাতুল কবির মিজান বলেন, এসব ঘটনা আগের এসিল্যান্ডের সময়ে হয়েছে। তিনি খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি জানাতে পারবেন বলে জানান। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহিনুল হাসান বলেন, পুকুর ভরাটের কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কোনো পুকুর ভরাটের পর্যায়ে নিয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, গত দুই বছরে রাজশাহী মহানগরীর কোনো পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি। পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য অনেক আবেদন এলেও কোনোটিই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রশাসন পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন করলে সেটি অন্যদেরও পুকুর ভরাটে উৎসাহিত করতে পারে।
নগরীর জলাধার রক্ষার স্বার্থেই শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদনগুলো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পুকুর-জলাশয় ভরাট করে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজশাহীতে কারা এভাবে পুকুর ভরাট করে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন, তা নগরবাসীর অনেকেরই জানা।
এসব জলাশয় যেন আর কেউ ভরাট করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পুকুরটি ভরাট হওয়ার ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। নগরীর জলাধারগুলো রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুকুরটি পুনরুদ্ধারের পর পুনরায় ভরাটের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই নতুন ভরাটের বিষয়ে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জলাধার রক্ষায় প্রশাসনের পূর্বের উদ্যোগগুলো যেন কার্যকর থাকে, সে বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
