রাজবাড়ীর পাংশা বাজারের বারেক মোড় এলাকায় শুক্রবার দুপুরে ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের পাশে অবস্থিত একটি বসতবাড়ির রান্নাঘরের কাছে থাকা পাটকাঠির গাদায় আগুন দিয়ে ভিমরুলের বাসা পোড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।
সেই আগুন থেকে সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা পার্শ্ববর্তী বাজারের পাঁচটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে পাংশা বণিক সমিতির সভাপতির দুটি দোকান এবং কাঠের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ক্ষীরোদ পালের একটি দোকান রয়েছে। খবর পেয়ে পাংশা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং কালুখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পাংশা বণিক সমিতির সভাপতি বাহারাম সরদার জানান, বাজারের পাশের ওই বসতবাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার দুটি দোকানসহ মোট পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ও সম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফার্নিচার ব্যবসায়ী ক্ষীরোদ পাল জানান, শুক্রবার দোকান বন্ধ থাকায় তিনি সেখানে ছিলেন না। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তিনি ছুটিতে ছিলেন। তার দোকানে মালামাল কেনার জন্য রাখা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ অর্থসহ দোকানের সমস্ত আসবাবপত্র ও মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে রান্নাঘরের পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভিমরুলের বাসা পোড়ানোর মতো অসতর্ক কর্মকাণ্ডের কারণে এই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং আগুন নেভানোর জন্য স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেন।
তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। পাংশা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত নিরূপণে কাজ চলছে। ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় এলাকাটিতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতির কারণে আগুন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দোকানে ছড়াতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
