রাজবাড়ী জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আটজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে দুইজন রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যান্য এলাকার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়েছে যে, গোয়ালন্দে চারজন এবং কালুখালীতে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই তথ্যের মাধ্যমে জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
রাজবাড়ী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে মোট ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
একই সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলোতে মোট ১৩৯ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সম্মিলিত তথ্যের মাধ্যমে জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র ফুটে উঠেছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন যে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ রোগীই মূলত সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি আরও জানান, আজ হাসপাতালে নতুন করে আটজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সদর হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সদর হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বেশি থাকে কারণ উপজেলা পর্যায়ের রোগীরাও সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে আক্রান্তদের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সমন্বয়ে ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত সেবা প্রদানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার এই বিন্যাস ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন নতুন রোগীর ভর্তি হওয়া এবং চলতি বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া রাজবাড়ীর স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে।
