রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ে কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই বিলম্ব ঘটে।
আদালতের সংশ্লিষ্ট উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মিয়া জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মো. নূরে আলম আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। এই মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ছাড়াও অন্য পাঁচজন আসামি হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক ডা. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটিকে করোনা চিকিৎসা ও নমুনা সংগ্রহের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করেছেন বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিবরণীতে বলা হয়, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা সত্ত্বেও রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয় এবং এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।
এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে রিজেন্ট হাসপাতালের মাধ্যমে কোভিড রোগীদের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষার কথা থাকলেও প্রতিটি নমুনার বিপরীতে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মীদের মাসিক খাবার খরচ বাবদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি ভুয়া চাহিদা তৈরি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের নাম আসামির তালিকায় ছিল না। পরবর্তীতে তদন্তকারী সংস্থা মামলার তদন্তকালে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় অভিযোগপত্রে তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২২ সালের ১২ জুন এই ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মামলাটিতে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী পর্যায়ে বাকি সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই গুরুতর অভিযোগের বিচারিক কার্যক্রমের ওপর সংশ্লিষ্ট সব মহলের নজর রয়েছে।
