ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন যাত্রাবাড়ী, তুরাগ ও লালবাগ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার ৩১ আগস্ট এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাইফুল ইসলাম, বর্ষা আক্তার, সানজু, মো. ফাহিম, মো. হৃদয়, পুলক ভট্টাচার্য্য, মো. সুজন দেওয়ান, মো. বিলাল, মো. সোহেল, মো. খোকন, মো. রাসেল শেখ, ডালিয়া আকতার, মো. রাসেল, মো. বাচ্ছু, নাসির, মো. রাসেল, ডালিয়া আকতার ওরফে শারমীন সুলতানা ওরফে শুধা, মো. রাসেল সরদার, মুন্না, লাকিয়া ইসলাম এবং হারুনর রশীদ মুন্না।
একই সময়ে তুরাগ থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আলমগীর হোসেন ওরফে কার্ফু, মুজিবুল হক, মো. ছোটন, নুরুল ইসলাম রাকিব, মো. হাবিব হাসান, মো. রাকিব আজিজ, কামরুল হাসান এবং মো. শাহীন। এছাড়া লালবাগ থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের নাম মো. আলী, রিফাত হোসেন, তরিকুল ইসলাম রাজু, মো. নয়ন, মো. শাওন এবং মো. ইকবাল। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে নিয়মিতভাবে এই ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবারের অভিযানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল, তাদের সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং অপরাধ দমনে ডিএমপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান রাজধানীর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন। অভিযানে অংশ নেওয়া প্রতিটি থানার পুলিশ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় অপরাধীদের তালিকা ধরে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেসব স্থানকে গুরুত্ব দিয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, জননিরাপত্তা রক্ষায় এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
