রাজধানীর ডেমরা এলাকার কামারভোগে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেলোয়ার হোসেন নামের ৪৫ বছর বয়সী এক রিকশাচালককে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রনি নামের ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। নিহত দেলোয়ার হোসেন এবং অভিযুক্ত রনি উভয়েই ডেমরার কামারভোগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ডেমরা থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দেলোয়ার হোসেন পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ছিলেন। ঘটনার রাতে রনির সঙ্গে তার কোনো একটি বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেনের কাছে রনি দেড় শ টাকা পেতেন।
এই টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে রনি ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেনের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন। ইটের আঘাতে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি রনিকে হাতেনাতে আটক করেন। উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেন।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং আহত অবস্থায় রনিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে রনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেমরা থানার উপপরিদর্শক শীতল কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রনির বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে রনি মাদক কারবারে লিপ্ত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন এবং রনি একে অপরকে আগে থেকেই চিনতেন। পূর্ব পরিচিত হওয়ার সুবাদেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ হতো। তবে দেড় শ টাকার পাওনা নিয়ে সৃষ্ট এই বিরোধ যে হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ রূপ নেবে, তা স্থানীয়রা কেউ ভাবতে পারেননি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রনি সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেলোয়ার হোসেন একজন পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন এবং রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। কামারভোগ এলাকার বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তারা নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছে যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরির চেষ্টা করছে। মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
