রাজধানীর ডেমরা থানাধীন কামারগোপ এলাকা থেকে দেলোয়ার হোসেন দেলু নামের ৪৫ বছর বয়সী এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় একটি জমির ভেতর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দেলোয়ার হোসেন পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক শীতল কুমার জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কামারগোপ এলাকার একটি জমির ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, কোনো দুষ্কৃতকারী ইট ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের মেয়ে লামিয়া জানান, বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্থানীয় রনি নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক মোবাইল ফোনে কল করে দেলোয়ার হোসেনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান।
এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরে সকালে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি লামিয়া। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রনি নামের ওই যুবক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং তিনি নিজেও মাদকাসক্ত বলে তারা শুনেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ রনিকে আটক করেছে এবং বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। অটোরিকশা চালক দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার পরিবারের সদস্যরা এখন শোকাতুর অবস্থায় রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার এজাহার পাওয়ার পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদক সংক্রান্ত কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
